আল্লাহর আইনে সব কিছুকে দুই ভাগ করা হয়েছে। যেমন-

মুসলিম-কাফির
হক-বাতিল
হালাল-হারাম
হিদায়াহ-জাহিলিয়াহ
জান্নাত-জাহান্নাম

এই ভাগগুলোর মাঝে তৃতীয় কোনো পথ নেই! কিংবা দুইটার মিক্সড কোনো অপশনও নেই। হয় এটা না হয় ওটা, ব্যাস শেষ।

হিসাবের দিন আল্লাহ শুধু দেখবেন কে মুসলিম আর কে কাফির, তাই এখানে কিউট ইসলাম পালনের কোনো চান্স নেই, আমি মুসলিম অথচ আমি ভালবাসা ছড়াতে ছড়াতে, মানবতা দেখাতে দেখাতে বিধর্মী উৎসব পালন করলাম, তাদের সাথে অবাধে চলাফেরা করলাম, বন্ধুত্ব করলাম, আবার মুসলিম হয়েও ইসলামের নানান আইন নিয়ে কটূক্তি করলাম, বা মানলাম না। ইসলাম শান্তির ধর্ম বলে মনকে বুঝিয়ে যে কাজেই আমার মন শান্তি পায় সেই কাজই করে গেলাম, হোক সেটা জিনা!

ভাই থামুন এবার, এই “কিউট শান্তির ধর্ম ইসলাম” পালন করে আপনি দুনিয়াতে মানুষের কাছে পাড় পেলেও আল্লাহর কাছে পাবেন না। এই কিউট ইসলাম পালন করতে যেয়ে আপনার মাঝে যে কুফুরি প্রকাশ পাবে এতেই আপনি সিদা জাহান্নাম!

হিসাবের দিন আল্লাহ শুধু দেখবেন আপনি হকের পথে চলেছেন না বাতিলের পথে, হক কথা বলেছেন নাকি বাতিল কথা, বাতিল হলে তো সাথে সাথেই কেইস ডিসমিস তাইনা? কিন্তু হকের পথে চলেও কিছু কিছু বাতিল যদি ধরে রাখেন, বা হকের সাথে বাতিল একদম মিলায়ে মিশায়ে একাকার করে ফেলেন তবেও সিদা জাহান্নাম!

এরপর হালাল হারাম, এই দুই নাম ছাড়া আল্লাহর কাছে মধ্যম কোনো নাম নেই, আপনার হালাল খাদ্যাভ্যাসে কিছু কিছু আইটেম থাকে হারাম, আবার আয় রোজগারের কিছু কিছু থাকে হারাম, এই যেমন অনেস্টের সাথে চাকুরি করেন কিন্তু ঠিকই ঘুষ খান, নিজেকে বুঝ দিবেন এই বলে যে, আমি তো খুব সৎপথে চলার চেষ্টা করি, এই টুকটাক হারাম ঢুকে গেলে সমস্যা নেই, থাকেন এইখানেই, এই বুঝ নিয়ে দুনিয়াতেই থাকেন। কারণ এই বুঝ দিয়ে হিসাবের ময়দানে পার পাবেন না।

আপনি হিদায়াতের পথে থেকেও টুকটাক জাহেলি কাজে জড়িত তাইনা? এই যেমন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তিলাওয়াত করেন, কোনো গুনাহের সাথে নাই অথচ বেপর্দা, মনের পর্দাই বড় পর্দা নামক কিউট ইসলাম পালন করছেন, কিংবা নামাজ, রোজা, পর্দা সব করছেন আবার একটা টুস করে প্রেমও করছেন, থাক, সমস্যা নেই, এখনো সময় আছে পুরো হিদায়াতের পথে আসতে পারবেন।

এইযে দুইটা ভাগ করলাম, বাম দিকের ভাগ পড়ে যান, মুসলিম-হক-হালাল-হিদায়াহ-জান্নাত। আবার ডান দিকের ভাগ পড়েন, কাফির-বাতিল-হারাম-জাহিল-জাহান্নাম।

সিরাতুল মুসতাকিম মানে সোজা পথ, একদম সোজা চলবেন, সোজা গিয়ে জান্নাতে পড়বেন। উল্টাপাল্টা চলার চান্স নাই। বর্তমানে আমরা মানবতার যে ধর্ম পালন করছি, অর্থাৎ অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি প্রীতি, হাজারটা কালচার ইসলামের সাথে মিশিয়ে গুলিয়ে আসল ইসলামকে হারিয়ে চলছি, আল্লাহর আইনকে কাটছাঁট করে নিজেদের আইন ঢুকাচ্ছি, মুসলিম আর কাফিরকে ভাগ না করে আমরা দেশ দেশ ভাগ করছি, অর্থাৎ আমার দেশে যে কাফির লোকটা আছে সে আমার দেশীয় ভাই, আর পাকিস্তানে বা ইন্ডিয়াতে যে মুসলিম ভাইটা আছে সে আমার শত্রু, আমি আমার দেশের কাফির গরিব লোকটাকে সাহায্য করব অথচ অন্য দেশের কোনো মুসলিম আমার কাছে আসলে আমি সাহায্য করব না, আশ্রয় দিব না। এইযে ইসলামটাকে এত কিউট করে মনের মত করে সাজিয়ে নিয়েছি, এই কিউট ইসলাম পালনে যে ইবাদাত করছি এইগুলো প্রথম আসমান ক্রস করে কিনা সন্দেহ!

আমাদের সাবধান হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে, তওবা করার ওয়াক্ত শেষ হয়ে আসছে প্রায়, তওবা করুন, নিজে ও পরিবার পরিজনের সবাইকে বুঝ দিন, সময় আর বেশি নাই, নূরের পথে আসুন, অন্ধকারে আর কত? সুন্নত আঁকড়ে ধরুন, তর্ক আর নিজেকে বুঝ দিয়ে চলা আর কত? শিরিকমুক্ত হয়ে নামাজ আঁকড়ে ধরুন, প্রতি রমজানে অনেকবার কুরআন খতম হয়েছে, এবার একটু অর্থ বা তাফসির খুলে দেখুন আল্লাহ কী বলেছেন আমাদের! হিসাব করুন কত যাকাত দেওয়া বাকি, হজ ফরজ হয়েছে না? এত টাকা কবরে নিয়ে যেতে পারবেন না যে বাবা, ভাই, স্বামীদের বোঝান। এইসব দুনিয়াদারি, টাকা পয়সার পেছনে ছোটা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমা, গান-বাজনা, গেইমস, টিকটক, হাসি মশকরা সব ছেড়ে মানে এই কিউট ইসলামটাকে ছেড়ে এবার একটু আসল ইসলাম গ্রহন করুন। মুমিনের মত চলুন। একদম পাক্কা মুমিন!


Monday, 9 March 2020 at 09:46