কেরানী টাইপের কিছু লোক আছে। মাথা সবসময় তেল চিটচিটে, পরিপাটি আঁচড়ানো। মধ্যবিত্ত পরিবারের, মিনমিনে, শান্তশিষ্ট। অদৃশ্য কোনো এক কারণে বসদের সামনে কখনই পিঠটা সোজা করে দাঁড়াতে পারে না। কথা এত নিচু স্বরে বলে যে প্রায় শোনাই যায় না। অথচ যখন শুনি ঐ একই লোক ঘরের বউকে পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে ফেলেছে তখন বলুন তো কেমন লাগে!!!

আমাদের মত নিম্ন মধ্য আয়ের দেশগুলোরও ঠিক একই অবস্থা। প্রশাসনের দিকেই দেখুন। নিজের দেশের মানুষের সামনে এদের তর্জন-গর্জন শুনে মনে হয়, এরা কয়েক হাজার বছর ধরে দাপটের সাথে পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অঞ্চল শাসন করে আসছে। অথচ এদের অফিসাররা যখন খুচরো কিছু ডলারের লোভে বিভিন্ন দেশে ইউএন মিশনে যায় তখন সেখানে ধলা সৈন্যদের ফুর্তি করার জন্য নির্ধারিত ক্লাবের দরজায় উঁকি দিতেও ভয়ে এদের গলা থেকে নাভি পর্যন্ত শুকিয়ে যায়। পশ্চিমা প্রভুদের সামান্য গলা খাঁকারিতেই এদের প্যান্টটাকে শুকনো রাখা দায় হয়ে যায়; অথচ নিজের দেশের মানুষের পিঠে চাবুক চালানোর সময় নিজেদের চেহারায় আলেক্সান্ডার নট সো গ্রেটের কাল্পনিক আভিজাত্যের একটা ভাব ফুটিয়ে রাখে।

আমার মনে আছে, বাংলাদেশের উর্ধ্বতন অফিসারদের একজন খুব ভাব নিয়ে আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করছিলেন। আপাতত নাম উল্লেখ করে তাকে সেলিব্রেটি বানাতে চাচ্ছি না। সেদিন আমার চোখ ছিলো বাঁধা। দুই হাতে লোহার শৃঙ্খল। তিনি আমাকে কিছুটা তাচ্ছিল্যের সাথে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করছিলেন আর আমেরিকানদের সামনে বিভিন্ন কায়দায় নিজের অতি উচ্চ ব্যক্তিত্ব জাহির করার হাস্যকর চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন। আমি অনেকক্ষণ চুপচাপ শুনলাম। এইবার আমার পালা। খুবই শান্তভাবে বললাম, “Your position is not fit to talk to a soldier like me, Officer”

চোখ বাঁধা অবস্থাতেও বুঝতে পারছিলাম ভদ্রলোক বিরাট ধাক্কার মত খেয়েছে। তার কণ্ঠস্বর পুরাই আউলা খেয়ে গেছে। হাল্কা পিত্তি জ্বলা গন্ধও পেলাম। ভদ্রলোক কিছুটা সামলে নিয়ে চট করে তুমি থেকে আপনিতে উঠে আসেন এবং বলেন “আপনার কি কোনো ধারণা আছে? You have no idea about my position.”

আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জবাব দিলাম, “Yes I do, আমার সামনে বসে থাকা আপনার এইসব সাদা প্রভুরা ধমক দিলে আপনি পেশাব আটকে রাখতে পারেন না। This is your POSITION!”

কণ্ঠস্বরে আরো এক প্রলেপ গান পাউডার মিলিয়ে বলি, “My fight is against your white lord and you are not even eligible to be my enemy. So step aside and let your American lord talk to me man to man.”

ভদ্রলোক তোতলাতে তোতলাতে বলেন, “ইলিউশন কি জিনিষ জানেন?”

আমি বলি, “জি জানি, যে জিনিষের মধ্যে আপনি হাবুডুবু খাচ্ছেন।”

রুমের কেউ একজন ফিক করে হেসে দেয়ায় ভদ্রলোক বিরাট লজ্জায় পড়ে গেলেন। অন্য একজন অফিসার দ্রুত বিষয়টাকে সামাল দেয়ার জন্য আমাকে বলেন, “ভালো বলেছেন, কিন্তু এখন আমরা একটা ব্রেক নিচ্ছি। কিছুক্ষণ পর আবার বসবো।” মনে হলো তিনি তার অফিসারকে কিছুটা বাঁচানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু ততক্ষণে বেচারার পিত্তি, কলিজাসহ যা কিছু ছিলো সব পুড়ে ভস্ম। ভদ্রলোক সঙ্গে সঙ্গে সশব্দে রুম ত্যাগ করলেন। চেক মেট।

রুমের সবাই মনে হচ্ছিলো একটা ফাইট দেখা থেকে বঞ্চিত হয়ে বিরাট হতাশ হয়েছে। ততদিনে আমিও বুঝে গেছি বেচারা অফিসারদের কর্মজীবনে একটাই মাত্র বিনোদন। আর তা হচ্ছে বড় কর্তাদের নির্মমভাবে অপদস্থ হতে দেখা। ঐ দিনের পর ভদ্রলোকের কণ্ঠস্বর আমি আর শুনিনি। মিডিয়াতে অবশ্য প্রায়ই তাকে দেখি আর সেদিনের কথা মনে করে আল্লাহ্‌র শুকরিয়া আদায় করি।

ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আমি মিশরেও দেখেছি, তুর্কিতেও দেকেছি; এরা শুধু তাদের আম্রিকি প্রভুদের খুশি রাখতে কোনো রকম প্রমাণ ছাড়াই আমাদের জঙ্গি সন্ত্রাসীসহ কত কিছু বলে বেড়ায়। আমরা নাকি হেন করি তেন করি। আরে ব্যাটারা তোদের আম্রিকি প্রভুরা কী করে? তারা কি ড্রোন থেকে ফুলের মালা আর গোলাপজল ছিটিয়ে বেড়ায়? তাদের বিরুদ্ধে তো কথা বলার মত মেরুদণ্ড দেখি না!

আমি তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেন তারা ফিরিঙ্গিদের খুশি করতে নিজের জাতভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করছেন? জবাবে অফিসাররা আক্ষেপ করে বলেন, “ভাই আমরা হলাম চাকর। আমাদের কী করার আছে বলুন?”

জি ঠিক ‘চাকর’ শব্দটাই তারা ব্যবহার করেছিলেন। হায়! স্বাধীনতার কি সাধ, এদের পচন ধরা হৃদয় একটিবারের জন্যও তা অনুভব করে দেখেনি। আমার হাতের লোহার শিকল আমাকে মুহূর্তের জন্যেও বন্দী করতে পারেনি। অথচ এদের লজ্জাহীনতা এদের এমন ভাবে বন্দী করে রেখেছে যে এখান থেকে এদের কোনো মুক্তি নেই। আর আমিও ঠিক এই কারণেই বলেছিলাম “Your position is not fit to talk to a soldier like me.” আপনারা চাকর হলে চাকরের মত থাকুন। দয়া করে খামোখা অফিসারের ভাব দেখাবেন না।

এসব কথা আমি পাবলিকলি প্রকাশ করছি বলে হয়তো এরা আমার বিরুদ্ধে আরো দশটা মিথ্যা মামলা দিতে পারবে। যেকোনো দিন আমাকে আবারো গুম করতে পারবে। আল্লাহ্‌ চাহে তো আমাকে হত্যাও করতে পারবে। কিন্তু যেটা ওরা কোনো দিন পারবে না তা হচ্ছে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে। ইনশা আল্লাহ্‌। বন্দী অবস্থায় আমি বার বার এদেরকে বলেছি এবং বিভিন্ন দেয়ালে লিখেও দিয়েছিলাম,

“Jail me or kill me, you won’t stop fearing me;

Coz, I am Banda Reza and I am a Muslim.”

দেশের যে হাল, তাতে অনুমান করছি আমার পাঠকদের কেউ কেউ হয়তো জেলের দেয়ালে আমার কিছু লিখা স্বচক্ষেই দেখার সুযোগ পেয়েছেন। আমি অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করেছি, এই কথাটা এদেরকে ভিতরে ভিতরে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিতো। এদের চেহারায় তাদের অসহায়ত্ব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠত। আর আমিও বিলাল (রা) এর মত ইচ্ছা করেই বার বার এই ডায়ালগ গুলো বলে তাদের কলিজা ভুনার গন্ধ শুঁকতাম।

এতো গেলো প্রশাসনের কথা। এবার আসুন চেতনাবাজদের দেখি। এসব দেশের জাতীয়তাবাদী চেতনা ধারণকারীদের বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন লাইন থেকে শুধুমাত্র গরীব দেশের পাসপোর্টের কারণে অন্যদের থেকে কান ধরে আলাদা করে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। অথচ খুবই আশ্চর্য লাগে যখন দেখি এরাই আবার নিজেদের দেশ-জাতির প্রশংসায় “একটি বাংলাদেশ তুমি শাশ্বত জনতার; সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার” টাইপ গীত রচনা করে! এসমস্ত দেশ-জাতি নিয়ে কেউ কোনোভাবে বিস্মিত কিনা জানি না, তবে ঠিক কোন কারণে আমরা এধরনের বুলি আউড়াচ্ছি সেটা ভেবে আমি নিজেই যারপরনাই বিস্মিত!

নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে এদের বিরাট হৈচৈ! অথচ মনে প্রাণে এরা একশতভাগ খাঁটি বলিউডি-হলিউডি। চেতনার মুলা বেচা শুধু মঞ্চে আর টকশোতেই। ঘরে ফিরেই রিমোট কিন্তু হিন্দি সিরিয়ালে। রাজনীতি, আইন আর দর্শনে এরা আপাদমস্তক ভিনদেশী; ভাড়া করা মূল্যবোধ আর কিনে আনা প্রযুক্তি পুরোপুরি বিদেশী হলেও শ্লোগান কিন্তু বরাবরই স্বদেশী।

এসব দেশের নেতা নেত্রীর চোয়াল হলো সবচেয়ে অধিক প্রদর্শনযোগ্য সামগ্রী। সর্বাঙ্গজুড়ে কেবল চোয়ালটাই অবশিষ্ট। চাপাবাজিতে যেমন এদের কোনো জুড়ি নেই, কামড়া কামড়িতেও এদের কোনো তুলনা হয় না। এদের কামড় যেমন বিষাক্ত, লেহনও তেমন মোলায়েম। এরা নিজের জাতভাইকে দেখামাত্রই শুরু করে ঘেউ ঘেউ; সুযোগ পেলেই বসিয়ে দেয় কামড়। এই কামড় আজীবনের আমরণের। অনন্ত অবিরাম।

আবার বিদেশী প্রভুদের সামনে এদের লেহন ক্ষমতা অপরিমেয়। সঙ্গে ল্যাঞ্জা দুলানো একদম ফ্রি। প্রভুরা যত জোরেই লাথি মারুক, এরা কাঁই শব্দটিও করে না। প্রভুরা জিএসপি ধরে ঝাক্কি দিলে বলে, নো-প্রবলেম ড্যাডি! আর টিপাই মুখ টিপ্পা ধরলে কয়, ঠিকই তো করেছেন দাদা! ফেলানিরে মারলে কয়, ব্যাপার না… ফেলানিই তো… জয় বাবা আর তারেক ভাইয়া তো আর না!!!

আরে ব্যাটারা, যত বাহাদুরি আর জারিজুরি আছে সব দেখাতে পারিস নিজের দেশের মানুষের উপর! আম্রিকি ড্যাডি আর ভারতীয় আব্বুদের বেলায় তো ঠিকই বসে বসে আঙ্গুল চুসতে থাকিস। বুকের পাটা থাকলে বলে দেখা;

“আজ থেকে ফেলানির জন্য; ভারতীয় চ্যানেল আর পণ্য - বয়কট!!! বয়কট!!! বয়কট!!!

নইলেরে চেতনার ব্যাপারী; দেশপ্রেম রেডিওর ব্যাটারি - চুপ থাক!!! চুপ থাক!!! চুপ থাক!!!”

মরালঃ পিঠ সোজা করে দাঁড়ানোর জন্য যে মেরুদণ্ডটি আল্লাহ্‌ আমাদের দিয়েছেন তা হচ্ছে ইসলাম। এক মাত্র ইসলামের মাধ্যমেই আপনি পারবেন নিজের কাছে এবং অন্যের কাছে মাথা উঁচু করে দাড়াতে। অন্যথায় আপনাকে আপাত দৃষ্টিতে স্যুটেদ বুটেড তারকা খচিত ইউনিফর্মড মনে হলেও আপনি ঠিকই জানেন আপনি একটি মেরুদন্ডহীন তেলাপোকা ছাড়া আর কিছুই না। একদিকে প্রভুদের অন্যায় আদেশ ‘জো হুকুম’ বলে পালন করতে হচ্ছে এবং অন্যদিকে সার্বক্ষণিক অন্তঃদহনে ছারখার হতে হচ্ছে। এর পরেও আপনি না পাচ্ছেন নিজের চোখে সন্মান না পাচ্ছেন প্রভুদের কাছে ইজ্জৎ। তার উপর হঠাৎ করেই ধারালো ছুরি নিয়ে ঐশীরা এসে হাজির হচ্ছে মাঝরাতে। তখন আপনার আর কিছুই করার থাকছে না।

জাতীয়তাবাদী চেতনার ঘোরে যারা আচ্ছন্ন, তারা হয়তো নিজেদের ভিত্তিহীন গোঁড়ামিগুলোকে কিছু সময়ের জন্য জাস্টিফাই করতে পারেন। কিন্তু ফেলানিরা যখন ঘুরেফিরে আপনার গালে চপেটাঘাত করে যায় তখন আপনাকে টকশোর জন্যে বার বার ফোন করেও খুঁজে পাওয়া যায় না। আপনারা তখন পালিয়ে লাস-ভেগাস বা দার্জিলিং এ অবকাশ যাপন করেন। আত্মসম্মান কি জিনিষ তা কখনো চেখেও দেখার সুযোগ আপনাদের হয়নি।

ইজ্জৎ একমাত্র আল্লাহ্‌র, আল্লাহ্‌ রসুলের এবং আল্লাহ্‌ ওয়ালাদের জন্য। মোল্লা ওমরকে দেখেই শিখুন না। সামান্য স্যান্ডেল পড়া কিছু সৈন্য নিয়ে সারা পৃথিবীর সামনে মাথা উঁচু করে আছেন। অথচ পৃথিবীর সবগুলো পরাশক্তি এবং তাদের দোসররা মিলে দীর্ঘ এক দশকেও তাকে কিছু মাত্র ঝুঁকাতে পারে নি। এই শক্তি ঈমানের, এই শক্তি আত্মসম্মানের। এই শক্তি বিবেকের, এই শক্তি ব্যক্তিত্বের।

আমার লেখা পড়ে যদি কিছুটাও লজ্জা বোধ জেগে ওঠে তবে ভালো কথা। অন্যথায় আমার বিরুদ্ধে আপনাদের মিডিয়া, লাঠিয়াল বাহিনী অথবা কোর্ট কাচারি যা কিছু আছে ব্যবহার করতে পারেন। আমার ইজ্জৎ এবং নিরাপত্তা একমাত্র আল্লাহর হাতে। আমি আপনাদের সামনে মাথা উঁচু করেই থাকবো বি-ইযনিল্লাহ।

আমার মুসলিম ভাইদের বলছি, আপনারা যারা আজকে বিভিন্ন বাহানায় গর্তের ভিতরে লুকিয়ে থাকতে চাচ্ছেন; সেই দিনকে ভয় করুন যেদিন আপনাদের হাতের, জবানের এবং অন্তরের শক্তি সম্পর্কে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। সেদিন জবাব আপনার অন্তরকেই দিতে হবে। বাহানাবাজ জবানে কিন্তু সেদিন সিল-গালা মেরে দেয়া হবে।

জেনে রাখুন, একমাত্র আল্লাহ্‌ কাছে যে ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করবে তাকে এই দুনিয়ার কোন ভয়, শঙ্কা, জীর্ণতা বা ক্লান্তি কখনোই স্পর্শ করতে পারবে না। তার হৃদয়ে আল্লাহ্‌ এমন এক বাদশাহি দান করবেন যার খোঁজ দুনিয়াবাসী জানতে পারলে তৎক্ষণাৎ তার গোলাম হতেও রাজি হয়ে যাবে। যদি তাকে কারাগারের ছোট কুঠরিতেও বন্দী করে রাখা হয়, তবুও তার হৃদয় থাকবে ইউসুফ (আঃ) এর মত মুক্ত-স্বাধীন। যতই তার হাতে পায়ে শিকল বাঁধা হোক; ডানা মেলে সে ঠিকই উড়ে বেড়াবে এমন এক আসমানে যার সম্পর্কে দুনিয়া প্রেমিকদের কোনোই ধারণা নেই। কেউ কি কখনো ভেবে দেখেছেন, সাইয়েদিনা ইউসুফ (আঃ) কে কারাগার থেকে মুক্তির আদেশ দেয়ার পরেও কেন তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন? কেনইবা তিনি বাদশাহর কাছে তার শর্ত পুরা না হওয়া পর্যন্ত কারাগার ত্যাগ না করার ফায়সালা জানান? ভাই, এটাই হচ্ছে সেই স্বাধীনতা যা তাকে আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য সকল রাজা বাদশাহর ব্যাপারে বেপরওয়া করে দিয়েছেন।

যে ব্যক্তির জান-মাল খোদ আল্লাহ্‌ কিনে নিয়েছেন, এবং সকল পরাধীনতা থেকে যাকে আল্লাহই মুক্তি দিয়েছেন তার আবার কিসের ভয়! কেনই বা সে কোন কিছুর পরওয়া করবে? এ ছোট বিষয়টাই যারা বুঝতে পারে না তারাই একমাত্র দুনিয়ার ভয়ে গর্তে লুকিয়ে থাকে। অথচ ভয় কিন্তু কখনোই এদের পিছু ছাড়ে না। এরা এক একজন চলতি ফিরতি জম্বি যারা মৃতও নয় যে দাফন করা যাবে; আবার জীবিতও নয় যে এদের দ্বারা সমাজে কোন পরিবর্তন আসবে।

নিজের সামান্য জীবন নিয়ে খুব বেশি সংশয়ের কোনো কারণ নেই। নিরাপত্তা আল্লাহর তরফ থেকেই। আল্লাহ্‌ যদি নিরাপত্তা দান করেন তবে সারা বিশ্বের সমস্ত শক্তি মিলেও আমার একটি পশম উপড়াতে পারবে না ইনশা আল্লাহ্‌। আর যদি আল্লাহ্‌ চাহেন যে তার দুশমনদের বুলেট আমার সিনাকে ছেদ করে যাবে, তবে আল্লাহ্‌ তায়ালা সাক্ষী আছেন আমি সেই বাহানাই খুঁজে বেড়াচ্ছি হন্যে হয়ে। ইয়া আল্লাহ্‌, আপনার দুশমনের শৃঙ্খল থেকে বান্দা রেজাকে মুক্ত রাখুন, কিন্তু তাদের বুলেট থেকে বঞ্চিত করবেন না। আমিন ইয়া রব্বী।


ওয়াসসালাম, বান্দা রেজা
জিলক্বদ ১৪৩৪, সেপ্টেম্বর ২০১৩