এই যে রাস্তা ঘাটে, ঝোপে ঝাড়ে, রিকশা সিএনজি, আলো আধারির রেস্টুরেন্টের কোণায় ছেলেমেয়েগুলো প্রকাশ্যে জিনায় লিপ্ত এরা কিন্তু কাউকে লজ্জা করছে না, কোন কিছুতেই যেন এদের কিছুই এসে যায় না। আপনার আমার কিংবা এসব ছেলেমেয়েদের বাবা মায়েরা এগুলো দেখছে না ব্যাপারটা কিন্তু এমন নয়। তারা হয়ত দেখেও না দেখার ভান করছে কিংবা "ছি ছি যমানাটা পুরাই নষ্ট হয়ে গেল" নাক সিটকানি মন্তব্য ছুড়ে দিয়ে বাসায় ড্রয়িং রুমে পাশের বাসার আন্টির সাথে আলাপ করছে "দেখুন, আমার ছেলে মেয়ে কিন্তু আর দশজনের মত নয়!"

এই বাবা মায়েরা হয়তো অন্ধকারে ভালো মত খেয়াল করেনি, রিকশায় অন্তরঙ্গ হয়ে বসা ঐ মেয়েটি হয়ত আপনারই মেয়ে, কিংবা ছেলেটা হয়তো আপনারই আদরের সন্তান। এই ছেলে মেয়েগুলো জিনা করে বাসায় ফিরলে আপনিই হয়তো ফ্রিজের ঠান্ডা পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে দিবেন। এখনো হয়তো আপনার এই সন্তানকে হাতে তুলে খাইয়ে দেন। আর প্রতিদিন হয়ত পাশের বাসার আন্টিদের গর্ব করে বলেন, "আমার ছেলে মেয়ে কিন্তু আর দশজনের মত না!"

ইবনে আল জাউজি (রাহিমাহুল্লাহ) একবার একটা গল্প বলেছিলেন, এক রাজা আর তার একমাত্র মেয়ের গল্প। রাজা তার মেয়েকে খুব ভালোবাসতো। সে যা চাইতো তাই তাকে দেওয়া হত। তিনি তার মেয়ের কোন কিছুই অপূর্ণ রাখেননি। এভাবেই যাচ্ছিল দিন। ঐ রাজ্যের এক আবেদ লোক প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করতেন। এক রাতে তিনি তিলাওয়াত করলেন,

" মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর" [সূরা তাহরিমঃ ৬] ।

রাজার মেয়ে এই তিলাওয়াত শুনলো এবং তার দাসকে বলল, উনি যেন এই তিলাওয়াত বন্ধ করেন। আবেদ এই আদেশ শুনলেন না তিনি বারবার এই আয়াত তিলাওয়াত করতেই থাকলেন। শেষে মেয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে তার বাবার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, "তোমাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমাকে বলো সত্যিই কি আল্লাহ এমন আগুন প্রস্তুত করে রেখেছেন যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর?" রাজা উত্তরে বললেন, হ্যাঁ এটা সত্য! একথা শুনে মেয়ে বলল, "তাহলে কেন তুমি আমাকে এতদিন বলোনি? আল্লাহর শপথ! এখন থেকে আমি আর কোনদিন সুস্বাদু খাবার মুখে তুলব না আর আরামের বিছানায় ঘুমাবো না যতক্ষণ না আমি জানতে পারছি আমার ঠিকানা কোথায় হচ্ছে__ জান্নাতে না জাহান্নামে!"

চুলোর আগুনে যদি কোনদিন হাত দিয়ে দেখতে এর চেয়েও সত্তর গুণ আগুনের তীব্রতা কেমন হতে পারে তবে কখনো ঘুমোতে পারতে না, কিছু খেতে পারতে না। ইউমাল কিয়াহমার কঠিন দিনে মহান আল্লাহর সামনের দন্ডায়মান হওয়ার আগে হয়ত তোমাদের হুশ ফিরবে না!