শুনেছি, যারা একটু তথাকথিত দ্বীনদার (?) বয়ফ্রেন্ড, তারা তাদের গার্লফ্রেন্ডকে নিয়মিত পর্দার দাওয়াত দেন, একটু ঢেকে ঢুকে চলতে বলেন, ছেলে ক্লাসমেটদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকেন !

অনেকসময় প্রচন্ডে দুঃখে হাসি আসে। আমরা ভাল কিছু দেখলে বলি, মাশাআল্লাহ (আল্লাহ যেমন চেয়েছেন) তেমনই হয়েছে। এখানে আমরা বলতে শিখি মাশাশয়তান! কারণ সে যেমন চেয়েছিল হুবুহু তেমনই হয়েছে।

আপনি আপনার গার্লফ্রেন্ডকে পর্দার দাওয়াত দিচ্ছেন অথচ আপনি বুঝলেন না যে আপনি নিজেই তো তার জন্য পর্দা খেলাফের প্রধান কারণ!

- উনার সৌন্দর্য দেখার বাকী ছেলেদের যেমন অধিকার নেই, একইভাবে আপনারও অধিকার নেই।

- উনার সাথে কথা বলার বাকী ছেলেদের যেমন অধিকার নেই, একইভাবে আপনারও অধিকার নেই।

- উনার সাথে ঘুরাফিরা করার বাকী ছেলেদের যেমন অধিকার নেই, একইভাবে আপনারও অধিকার নেই।

তার জন্য বাকী সব গাইরে মাহরাম ছেলে আর আপনার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

আপনি বলবেন, 'আমি বয়ফ্রেন্ড, আমি স্পেশ্যাল। আমি আর বাকীরা এক হলো?'

কথায় যুক্তি আছে। 

আপনি আসলেই স্পেশ্যাল। তবে কোনদিক দিয়ে স্পেশ্যাল, জানেন?

আপনি তার জন্য অন্যদের থেকে স্পেশ্যাল এই একটা দিক দিয়ে যে বাকী ছেলেদের থেকে আপনি তার ফিতনা ঘটাচ্ছেন বেশি, বাকীদের থেকে তুলনামূলক আপনিই তার বেশি ক্ষতি করছেন। ফিতনা সমূহের মধ্যে আপনি তার জন্য স্পেশ্যাল ফিতনা।

বাকী কেউ হয়ত তার সৌন্দর্য্য দেখছে আর আপনি তো তার সৌন্দর্য 'উপভোগ' করছেন।

আপনি বাকীদের থেকে ঢেকে ঢুকে চলতে বলছেন, কেন আপনি একা দেখবেন বলে? আপনাকেই এই দেখার অধিকার কে দিয়েছে? আপনি তার স্বামী? 

আপনি বলবেন, 'স্বামী হবো'। কিন্তু বিয়ে পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন এই গ্যারান্টি আপনি কোথা থেকে পেয়েছেন? আপনার সাথেই তার বিয়ে হবে এবং হবেই এই গ্যারান্টিই আপনাকে কে দিয়েছে? কেন আপনি অন্য কারোর (যে তার স্বামী হবে) হক নষ্ট করছেন?

আপনি বলবেন, 'আমাদের বাসায় জানে, বিয়ে ঠিক করা'। ওয়াল্লাহি এমন অসংখ্য রেকর্ড আছে যে এসব প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত টেকেনা। অনেকে মনে করে, শারীরিক সম্পর্ক করে ফেলি তাহলে সম্পর্ক টিকবে। আরে তাহলে তো আরোই টিকেনা কারণ অবৈধ প্রেম হয়ই চেহারার ফ্যান্টাসি আর শারীরিক মোহে। স্বার্থোদ্ধার হয়ে গেলের যেকোন এক পক্ষ থেকে অনাগ্রহ সৃষ্টি হওয়া শুরু করে। মধ্যখান থেকে ব্যাভিচারের মত জঘন্য পাপ সংঘটিত হয়ে যায়। তাই এসব অবৈধ হারাম সম্পর্কে জড়িত থেকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বরং বিয়ের পর সুখে দুঃখে দুজন একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন, তা বাস্তবায়নে স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালা সাহায্য করবেন।

বাকী কেউ তার সাথে কথা বলে তার মৌখিক পর্দা লংঘন করিয়ে গুনাহ করছে ও তাকেও করাচ্ছে আর আপনি তার সাথে রসিয়ে রসিয়ে দিনরাত প্রেমালাপ কখনও বা খুব ডিপ কিছু নিয়ে আলোচনা করছেন যা একসময় অশ্লীল কথাবার্তার রূপ নিচ্ছে, আপনি তাকে কয়েকশ গুণ বেশি গুনাহ করাচ্ছেন।

আপনার সাথে থেকে তার একই সাথে দৃষ্টির পর্দা, শরীরের পর্দা, মৌখিক পর্দা, চলাফেরার পর্দা ইত্যাদি সবধরণের পর্দা খেলাফ হচ্ছে। তাছাড়া বাবা মা কে না জানিয়ে সম্পর্ক করায় বাবা মাকেও তার ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে কেবল আপনার কারণেই। আপনি তো ভাই তাকে নিজ দায়িত্বে জাহান্নামে পৌঁছে দেবার দায়িত্ব নিয়েছেন! মাশাশয়তান।

হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি।

এই আপনি মুখে তাকে বলছেন 'ভালবাসি, তোমার ভালো চাই' অথচ কী আশ্চর্য আপনি নিজেই তাকে একটা প্রশ্নবিদ্ধ রিলেশনে জড়িয়ে তার দিন দুনিয়ার ক্ষতি তো করছেনই এবং কেয়ামতেও সবার সামনে আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক তীব্র অপমান ও লাঞ্ছনার ব্যবস্থা ইতিমধ্যে করে দিয়েছেন। এ কেমন ভালবাসা বা ভাল চাওয়া?

আপনার গার্লফ্রেন্ডের পর্দা লংঘনের এবং ফিতনার সব থেকে বড় কারণ আপনি নিজেই। আপনি তার মোটেও ভাল চান না, বরং আপনি নিজের অবৈধ গাইরাতের কারণে নিজের স্বার্থে তাকে পর্দা করতে দাওয়াত দেন, ঢেকে ঢুকে চলতে বলেন।

আপনি সত্যিই তার ভাল চাইলে, তার পথ থেকে সেগুলো সরান যেগুলো তার ফিতনার কারণ। আর এই লিস্টে সবার প্রথমে রয়েছেন আপনি নিজে। সবার প্রথমে তাই নিজেকে তার জীবন থেকে সম্পূর্ণ সরান।

তারপর বোনদেরকে দাওয়াত দেবার জন্য মাশাআল্লাহ অনেক দ্বীনি বোনরা রয়েছেন। কোন মাহরাম আত্মীয়া দ্বারা তাদের সাহায্য নিয়ে তার কাছে দাওয়াত পৌঁছে দিন। আপাতত এ ধরণের দাওয়াত টাওয়াত দেওয়া ছাড়ুন। দাওয়াত দিতে মন উসখুস করলে বরং নিজের নফসকে দাওয়াত দিন নফস যেন বিয়ে ব্যতীত এবং বিয়ের পরেও স্ত্রী বাদে কোন পরনারীর প্রতি মনোযোগ সৃষ্টি থেকে পর্দা করে (বিরত থাকে)।